• শিরোনাম

    জৈন্তার হরিপুরে নতুন পর্যটন স্পট ঘোমটাপরা ‘বুজিরবন’

    বিডি জনপ্রত্যাশাঃ | ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

    জৈন্তার হরিপুরে নতুন পর্যটন স্পট ঘোমটাপরা ‘বুজিরবন’

    বিডি জনপ্রত্যাশাঃ ‘বুজিরবন’। সিলেটের নতুন পর্যটন স্পটের নাম। যার অবস্থান জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরের কাছেই। সিলেট শহর থেকে আরেক প্রকৃতিকন্যা জাফলং যাওয়ার পথে একটু দুর্গম এলাকায় গেলে দেখা দেবে সেই রূপবতী বুজিরবন! হিজল-করচসহ নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ আছে এখানে, যেন সবুজে আচ্ছাদিত। অনেকটাই মিঠাপানির বন সেই ‘রাতারগুলের’ মতোই।

    বুজিরবন! নিসর্গের মাঝে লুকিয়ে থাকা এক অপরূপ বনাঞ্চল। জলের সঙ্গে তার মিতালী। বর্ষার অথৈ জলে সে যেন নবরূপে জেগে ওঠে। আপন সৌন্দর্যের সবটুকু মেলে ধরে, উজার করে দেয়। এ সময় খুলে পড়ে তার বোরখার ঘোমটাও। আগন্তুক আর পথিকদের কাছ থেকে সে নিজেকে আড়াল করে রাখে ঠিকই, কিন্তু আপন ভ‚বনের বাসিন্দাদের কাছে সে খুবই আধুনিক-উদার। বনের বিচিত্র সব গাছ, জলচর-স্থলচর-উভচর প্রাণী আর মাছ শিকারিদের নিয়ে তার একান্ত আপন ভ‚বন। বর্ষার স্রোতঃস্বিনী জল তার স্বজন, পরম আত্মার-আত্মীয়। যৌবনের এ ভরা মৌসুমে সে যেন নীল আকাশের সঙ্গে বন্ধুত্ব খুঁজে পায়। যেন মনে হয়, পুরো আকাশ নেমে এসেছে বনের সান্নিধ্যে।

    বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে বুজিরবন একটি ‘সোয়াম্প বন’। সভ্যতার ছোঁয়াবহিভর্‚ত প্রাকৃতিক এ বনটি যেন নিসর্গের এক অপরূপ উদ্যান। জলকে ঘিরেই বনটির ‘ইকোসিস্টেম’ তথা পুরো অস্তিত্ব নির্ভরশীল। সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার একেবারে প্রান্তসীমায় অনেকগুলো হাওরের মধ্যে এক নির্জন স্থানে তার বেড়ে ওঠা, অবস্থান। করিচ ও কাপনা নদী চলে গেছে এ নদীর বুক বেয়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুড়াখাই নদীর একটি শাখা। তিন নদীর মিলনস্থলে প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো বনটি আবহমান থেকে এখনও টিকে আছে, পড়ে আছে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য!
    সিলেট-তামাবিল সড়ক ধরে হরিপুরের পরেই করিচ সেতু। সে সেতু থেকে পশ্চিম দিকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই বুজিরবনের অবস্থান। কিন্তু এ রকম এক ব্যস্ত স্থান থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী কীভাবে এটি যে পর্যটকদের দৃষ্টির আড়ালে থেকে গেল সে যেন এক রহস্য। দুর্গমতার কারণে হয়তো এমনটি হয়েছে। বনের বুক চিরে চলে যাওয়া নদীপথে গেলে দেখা যায়, হিজল-করচ-জারুল-বরুন-শেওড়া-বুরি আর কদমের লম্বা লম্বা সারি। গাছগুলো একটি আরেকটিকে ঘিরে ধরেছে আপন ভেবে। শতবর্ষী একেকটি হিজলগাছ নিজের ডালপালা আর পাতা দিয়ে অনেক জায়গা জুড়ে অবস্থান করছে। গোধূলির নিমুঝিমু আলো-আঁধারিতে এক একটি হিজল গাছকে মনে হয় গভীর ধ্যানে মগ্ন একেকজন সন্ন্যাসী। বনের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, মুর্তা, বেত, হুগলা আর শনের ঘন বন। বড় গাছগুলোর নিচের এসব ঝোপঝাড় দেখলে মনে হতে পারে, ছোট বনগুলোকে যেন এরা মায়ের মতো আদরের চাদরে ঢেকে রেখেছে। বর্ষার বহমান পানিতে মাথা উঁচু করে কোনোরকমে এগুলো জীবনের সঙ্গে অবিরাম যুদ্ধ করছে। বনের পশ্চিম-উত্তর দিকে রয়েছে ইকড়ের বিশাল হাওর। দিগন্তের ওপারের খাসিয়া-জৈন্তায়া পাহাড় তৈরি গভীর দৌত্যনা।

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১